৪ জুনের মহাজাগরণ, রাজ্যজুড়ে মানবশৃঙ্খলের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের প্রতিবাদ সভা থেকে আগামী ৪ জুন রাজ্যজুড়ে এক বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মনীষীদের মূর্তির সামনে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের জড়ো হয়ে মানবশৃঙ্খল গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঞ্চ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তীব্র প্রতিকূলতার মধ্যে দাঁড়িয়েই দলীয় কর্মীদের অত্যাচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে নতুন করে শপথ নেওয়ার বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে রানী রাসমণি রোডে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকলেও অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আন্দোলনের নেপথ্য কারণ
তৃণমূল নেত্রীর এই আকস্মিক ও ঝাঁজালো কর্মসূচির পেছনে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক সংঘাত। ধর্মতলার সভা থেকে তিনি হকার উচ্ছেদ এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর ক্রমাগত হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। বিশেষ করে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া, তৃণমূল সমর্থকদের ভয় দেখানো, মিথ্যা গ্রেফতারি এবং এদিন ধর্মতলার সভায় আসার পথে কর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্মঘট ও মানবশৃঙ্খলের ডাক রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘পাঁচ জন এলেও কর্মসূচি করুন’—নেত্রীর এই বার্তা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করতে পারে। প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কর্মীদের এভাবে বাধা দেওয়া চলতে থাকলে আগামীদিনে লালবাজার এবং নবান্ন ঘেরাওয়ের মতো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ জুনের এই রাজ্যব্যাপী মানবশৃঙ্খল কর্মসূচি একদিকে যেমন দলের অন্দরের ভাঙন রুখতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে তেমনই আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আন্দোলনের তীব্রতা ও ঝাঁজ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।