বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তবেই মরব, ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার

বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তবেই মরব, ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার

কলকাতা ও রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের একবার ঝাঁঝালো আন্দোলনের মেজাজে অবতীর্ণ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তাঁকে ব্যক্তিগত স্তরে নজিরবিহীন আক্রমণের অভিযোগ তুলে মমতা সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে না সরিয়ে তিনি ময়দান ছাড়ছেন না।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পূর্বসূরিদের প্রসঙ্গ

ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সৌজন্যের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করছে বর্তমান বিরোধী দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাঁরা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর কখনও এই ধরনের কুরুচিকর আক্রমণের মুখে পড়েননি। কিন্তু বর্তমানে বিজেপির একাংশ তাঁর বাড়ির বাইরে গিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, “বিজেপির লুম্পেনরা বলছে আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মরি, কিন্তু আমি অত সহজে মরব না। বিজেপিকে সরিয়ে তবেই মরব।” এদিন তাঁর পাশে মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের প্রবীণ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

দল ভাঙানোর চেষ্টা ও গদ্দারদের হুঁশিয়ারি

সম্প্রতি দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কৃত হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নাম না করে দলের অন্তর্কলহ এবং বিজেপির কৌশলের দিকে আঙুল তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতৃত্ব কিছু ‘গদ্দার’-এর সাহায্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা দলের আদর্শ বা ইতিহাস জানে না, তাদের দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত ষড়যন্ত্র তিনি কোনোভাবেই সফল হতে দেবেন না এবং সমস্ত পরিকল্পনা বানচাল করে দেবেন বলে স্পষ্ট বার্তা দেন।

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির দ্বিচারিতা

রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাঁর দলের প্রায় ১০ হাজার কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, বহু দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দলীয় বিধায়ক এবং কাউন্সিলরদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করছে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগে ছোটখাটো ঘটনাতেও রাজ্যে মহিলা কমিশন বা সিবিআই, ইডি পাঠিয়ে দেওয়া হতো, কিন্তু এখন শাসকদলের কর্মীরা আক্রান্ত হলেও কেন্দ্র সম্পূর্ণ নীরব। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে তিনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *