টিআরপি লড়াইয়ের মাঝেই বড় চমক, এবার নতুন নায়িকাকে সঙ্গে নিয়ে ছোট পর্দায় ফিরছেন আদৃত!

টেলিভিশন দুনিয়ায় টিকে থাকার লড়াই এখন বেশ কঠিন। প্রতিটি বাংলা বিনোদন চ্যানেলই তাদের দর্শক ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত গল্পের মোড় বদলাচ্ছে, স্লট পরিবর্তন করছে এবং একের পর এক নতুন ধারাবাহিক নিয়ে আসছে। টিআরপির এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝেই এবার ছোট পর্দায় বড় ধামাকা দিতে চলেছে স্টার জলসা। দীর্ঘ বিরতির পর টেলিভিশনের পর্দায় কামব্যাক করছেন দর্শকদের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা আদৃত রায়। চ্যানেলের নতুন মেগা সিরিয়াল ‘কুমকুম’-এর মাধ্যমে আবারও মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। তবে এবার আর পরিচিত কোনো মুখ নয়, পর্দায় আদৃতের বিপরীতে জুটি বাঁধতে চলেছেন নবাগত অভিনেত্রী অনুষ্কা।
ইতিমধ্যেই এই নতুন ধারাবাহিকের প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে ‘উচ্ছেবাবু’ কিংবা পরবর্তীতে ‘মিত্তির বাড়ি’ ধারাবাহিকে ‘ধ্রুব’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছেন আদৃত। এবার জি বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে স্টার জলসার পর্দায় ‘ঈশান’ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এই ধারাবাহিকে আদৃতের মায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ফিরছেন অরিজিতা মুখোপাধ্যায়।
লড়াকু কুমকুম ও ঈশানের নতুন রসায়ন
প্রকাশ্যে আসা প্রোমো অনুযায়ী, গল্পের পটভূমি গড়ে উঠেছে এক লড়াকু যুবতীকে কেন্দ্র করে। অল্প বয়সে বিধবা হওয়া কুমকুম নিজের সংসার নিজেই টানে। সে পেশায় একজন জুতোর কারিগর, যার আত্মসম্মানবোধ এবং মানসিক জোর প্রবল। অন্যদিকে, শহরের ছেলে ঈশান (আদৃত রায়) তার বিদেশি বন্ধুদের নিয়ে গ্রামে ফেরার পথে গাড়ির সমস্যায় পড়ে এবং তখনই তার সাক্ষাৎ হয় মোটোভ্যান চালক কুমকুমের সঙ্গে।
গল্পের মোড় ঘোরে যখন ঈশান জানতে পারে যে তাদের ১০০ বছরের পুরনো পারিবারিক জুতোর ব্যবসা বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে কুমকুম তাকে পরামর্শ দেয়, ‘ব্যবসা নয়, নকশা বদলান! বাঙালি পারে ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াতে’। কুমকুমের এই লড়াকু মানসিকতা এবং ‘ভোকাল টনিক’ প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করে ঈশানকে। এই চর্মশিল্পের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া ভিন্ন স্বাদের গল্পে কীভাবে ঈশান ও কুমকুমের রসায়ন জমে ওঠে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা।
কামব্যাকের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
টেলিভিশন দুনিয়ায় আদৃত রায়ের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। বড় পর্দায় ‘নূর জাহান’, ‘পরিণীতা’ বা ‘প্রেম আমার ২’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও, ছোট পর্দাই তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তা দিয়েছে। ‘মিত্তির বাড়ি’ ধারাবাহিকটি শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকমাস পর্দা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। প্রিয় অভিনেতাকে দেখার জন্য তাঁর অনুরাগীদের দীর্ঘদিনের আবদার ও অপেক্ষা ভাঙতেই মূলত এই মেগা সিরিয়ালের হাত ধরে তাঁর ফিরে আসা।
বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ বাংলা ধারাবাহিকের রেটিং নিম্নমুখী, তখন আদৃতের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় মুখকে ফিরিয়ে আনা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত কৌশল। অতীতে সৌমিতৃষা কুন্ডু কিংবা পারিজাত চৌধুরীর সঙ্গে আদৃতের জুটি দারুণ সফল হয়েছিল। এবার নবাগত অনুষ্কার সঙ্গে তাঁর এই একদম নতুন ও ফ্রেশ জুটি দর্শককে কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এবং স্টার জলসাকে টিআরপি তালিকায় কতটা এগিয়ে দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।