কাটোয়ার মেগা প্ল্যান ফাঁস, দুর্নীতির অবসান ও উন্নয়নের রূপরেখা দিলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ

বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগী দিগন্ত পালের গ্রেফতারির পর এলাকার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাটোয়ার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা, বিগত দিনের দুর্নীতি এবং আগামী দিনের রূপরেখা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ।
উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য ও রেলগেট সমস্যা
কাটোয়ার বিধায়ক হিসেবে কৃষ্ণ ঘোষের প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে এলাকার দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান। তাঁর মতে, শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল রেলগেট, যেখানে অবিলম্বে একটি ফ্লাইওভার বা ব্রিজ তৈরি করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে আগামী ৬ জুন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। এছাড়া কাটোয়া হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শহরের আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের জন্য বন্ধ থাকা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। এলাকার পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে টোটো এবং রিকশাচালকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে নির্দিষ্ট ভাড়া ও আলাদা রুট নির্ধারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও জনরোষ
বিগত সরকারের আমলে কাটোয়া পুরসভা এলাকায় চলা বেলাগাম আর্থিক অনিয়মকে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন নবনিযুক্ত বিধায়ক। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত ২০ বছরে কাটোয়া পুরসভার কোনও অডিট হয়নি। নিকাশি প্রকল্পের জন্য আসা কেন্দ্রীয় তহবিল আত্মসাৎ করা এবং বেআইনিভাবে পুকুর ভরাট করে বহুতল নির্মাণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে কাটমানি দিতে বাধ্য করা হতো। বিধায়কের দাবি, এই চরম দুর্নীতির কারণেই তৃণমূল নেতারা এখন এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন এবং তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালাতে প্রশাসন কোনো দ্বিধা করবে না। পাশাপাশি কাটোয়ার ঐতিহ্যবাহী কার্তিক লড়াই উৎসবকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।