লালবাজার-নবান্ন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি মমতার, ধর্নামঞ্চ থেকে গর্জে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

লালবাজার ও নবান্ন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি মমতার, ধর্মতলায় উত্তাল তৃণমূলের ধর্নামঞ্চ
বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের আবহে রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এক মেগা ধর্না কর্মসূচি থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। দলীয় বিধায়ক ও নেতাদের ভয় দেখিয়ে দল ভাঙার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করে নেত্রী হুঁশিয়ারি দেন, যদি ধর্নায় আগত কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়, তবে লালবাজার, নবান্নসহ সব থানা ঘেরাও করা হবে।
দলের ভাঙন রোধে মরিয়া নেতৃত্ব
বিজেপি শাসিত কেন্দ্রে এজেন্সির ভয় দেখিয়ে তৃণমূল বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের দলত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, একদিকে পুলিশের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে রাজনৈতিক বুলডোজ়ার চালানোর অপচেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগঠনের অন্দরে ভাঙন ও একের পর এক বিধায়কের বিদ্রোহ সামাল দিয়ে দলের রাশ পুনরায় নিজের হাতে মজবুত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিগত কয়েকটি বৈঠকে উপস্থিতির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্বেগ তুঙ্গে। দলের একাংশ নেতা হাইজ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় অস্বস্তিতে জোড়াফুল শিবির। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রাজপথের কর্মসূচি রাজনৈতিক সমীকরণ কতটুকু বদলাতে পারে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মমতা স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো মূল্যে তিনি দল ও সংবিধান রক্ষায় অনড়।