“দলে গণতন্ত্রই নেই, কেউ থাকবে না!” তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক জাভেদ খান

তৃণমূলের অন্দরে গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক বিধায়ক জাভেদ খান
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সরব হলেন দলেরই বিধায়ক জাভেদ খান। দলীয় গণতন্ত্রের অভাব, নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গণতন্ত্রহীন দলে ভবিষ্যতের সংকট
জাভেদ খানের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি জানান, দলীয় বৈঠকগুলো বর্তমানে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়েছে, কারণ সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত হয়ে থাকে। বিধায়কের আক্ষেপ, দলের অভ্যন্তরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে সেই সংগঠনের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে আরও অনেক নেতা দল ছাড়তে পারেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা
দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি রেড রোডে ইদের নামাজ আয়োজন সংক্রান্ত একটি সংবেদনশীল বিষয়ের অবতারণা করেছেন। জাভেদ খানের অভিযোগ, প্রশাসনিক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নির্দিষ্ট স্থানে নামাজের আয়োজনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নামাজের আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তিনি বাস্তবসম্মত ও সঠিক বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় দলীয় নির্দেশের অসংগতি তাঁর মনে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে।
দলের অন্দরের এই ক্ষোভ ও বিদ্রোহের সুর তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নেতৃত্বের একতরফা মনোভাব এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ার এই অভিযোগ ভবিষ্যতে দলের ভাঙন আরও ত্বরান্বিত করবে কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।