মমতার অন্দরমহলে কি বড় ভাঙন! শুভেন্দুর কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত বাবুনের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। রাজনীতির আঙিনায় যখন শাসক দলের একাধিক নেতার ‘বেসুরো’ হওয়ার খবর শিরোনামে, ঠিক তখনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দলের একাংশকে।
ক্রীড়া সংগঠনে বঞ্চনার অভিযোগ
বাংলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার প্রশাসনিক দায়িত্বে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত ছিলেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমানে একের পর এক পদ থেকে সরে যেতে হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি। সরাসরি নিশানায় রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং অরূপ বিশ্বাস কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, ২০১৩ সাল থেকে তাঁকে ক্রীড়া প্রশাসনে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় অন্যায়ভাবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের ক্ষোভের কথা দলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত
নিজের প্রতি হওয়া বঞ্চনার প্রতিবাদে এবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন। মূলত রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি শুভেন্দু অধিকারী ও নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। বাবুনের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার পরিবারের সদস্য হয়েও প্রকাশ্য সভায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার বার্তা কার্যত রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা এই ক্ষোভ ও অভিমানের রেশ বাংলার ক্রীড়া মহলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। বাবুনের দাবি অনুযায়ী, দলের অন্দরে ভুল বোঝাবুঝি এবং ভুল পথে চালনার কারণেই এই পরিণতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।