তাসের ঘরের মতো ভাঙছে অনুব্রত গড়, এবার কোর কমিটি থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস

রাজ্যজুড়ে শাসকদলের অন্দরে চলা পদত্যাগের হিড়িকের মাঝেই তীব্র অস্বস্তি বাড়ল বীরভূম জেলা তৃণমূলে। লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহের পর এবার দলের জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন রামপুরহাটের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কোর কমিটির পাশাপাশি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। দল না ছাড়লেও সংগঠনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করতে চান এই প্রবীণ রাজনীতিক। এর ফলে জেলা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল।
ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির নিষ্ক্রিয়তা এবং ভেতরের সমন্বয়হীনতাই এই ধারাবাহিক পদত্যাগের মূল কারণ। কয়েক দিন আগেই কোর কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেছিলেন অভিজিৎ সিংহ। সেই একই সুর শোনা গেছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিজিৎ সিংহের বক্তব্যের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ সহমত এবং সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে কোর কমিটির অন্যতম সদস্য কাজল শেখও কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। একের পর এক শীর্ষ নেতার এই ক্ষোভ প্রমাণ করে যে, অনুব্রত মণ্ডলের জেলা হিসেবে পরিচিত বীরভূমে দলের রাশ অনেকটাই আলগা হয়েছে এবং নেতাদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব ও বিরোধীদের কটাক্ষ
বাম আমলের দাপটের সময়েও ২০০১ সাল থেকে টানা ২৫ বছর রামপুরহাট কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়ে নজর কেড়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর কাছে তাঁর পরাজয় এবং পরবর্তীতে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জেলা সংগঠনে বড়সড় ধাক্কা। অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাদের এভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো এবং কমিটির নিষ্ক্রিয়তা আগামী দিনে বীরভূমে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির। বিজেপির সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের দাবি, বীরভূম তৃণমূলে ভাঙন কেবল সময়ের অপেক্ষা এবং দলের এই অভ্যন্তরীণ বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী ছিল।