তৃণমূলের ভরাডুবি: ‘চুরিতে দেদার ছাড়পত্র’ দেওয়াই কাল হলো, বিস্ফোরক সুখেন্দুশেখর

তৃণমূলের ভরাডুবি: ‘চুরিতে দেদার ছাড়পত্র’ দেওয়াই কাল হলো, বিস্ফোরক সুখেন্দুশেখর

চুরিতে দেদার ছাড়পত্র, তৃণমূলের অন্তরাত্মা খুঁড়লেন সুখেন্দুশেখর!

১৫ বছরের দাপুটে শাসনের অবসান ঘটিয়ে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এমন ভরাডুবিতে রাজনৈতিক মহলে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন দলের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দাবি, এই বিপর্যয় ছিল অনিবার্য।

দলের অন্দরে রুদ্ধদ্বার গণতন্ত্র

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাবের অভিযোগ তুলে সুখেন্দুশেখর জানান, দলের ভেতরে আলোচনার কোনো পরিসরই অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর কথায়, কালীঘাটের অন্দরমহলে পৌঁছানো ছিল দুষ্কর, আর দলের অভ্যন্তরীণ মিটিংগুলো হয়ে দাঁড়িয়েছিল নির্দেশ পালনের জায়গা। নেতৃত্ব দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কথা শোনার প্রয়োজনবোধ করেননি, যার ফলে সংগঠনের মূল ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

ভোটকুশলী সংস্থার দাপট ও লাগামহীন চুরি

দলের বিপর্যয় নিয়ে ভোটকুশলী সংস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, জনমুখী প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল ব্যর্থ হয়েছে কারণ দলটিকে একটি কর্পোরেট কাঠামোয় বন্দি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ভুঁইফোড় কিছু সংস্থাকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছিল, যারা জনবিন্যাস বা সামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংস্থাগুলোকে কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুখেন্দুশেখরের মতে, বিরোধীদের দমনে টাকার ব্যবহার এবং লাগামহীন দুর্নীতির প্রতি দলের পরোক্ষ প্রশ্রয়ই এই পতনের অন্যতম বড় কারণ।

গণতান্ত্রিক স্পেসের অভাব ও ভবিষ্যৎ

গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অস্তিত্ব এবং সমালোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল সরকার বিরোধীদের স্পেস দেয়নি, যার চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের প্রশংসা করলেও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বিশেষ আশাবাদী নন। সুখেন্দুশেখর স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার মানসিকতা না থাকলেও, রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা চিরকালই থাকে। তৃণমূল নেতৃত্ব বিপর্যয় স্বীকার করে আত্মসংশোধনে না নামলে দলের অস্তিত্ব সংকটের পথেই এগোবে, এমনটাই মনে করছেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *