তৃণমূলের ‘সই-রহস্য’: অভিষেককে তলব সিআইডি-র, আদালতে সইয়ের নমুনা চাইল তদন্তকারী দল
তৃণমূলের রেজোলিউশন বুকে সই জালিয়াতির তদন্তে সিআইডির নজরে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভা বৈঠকের রেজোলিউশন খাতার সই এবং তারিখ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ১৯ মে কালীঘাটে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠিতে তারিখ লেখা রয়েছে ৬ মে। এই অসঙ্গতি সামনে আসতেই তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। রহস্যের জট খুলতে আগামী ৮ জুন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান রেকর্ড করতে চান তদন্তকারীরা, কারণ বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠিটি তাঁর প্যাডে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের পরিধি ও ফরেন্সিক পরীক্ষার প্রস্তুতি
তদন্তের স্বার্থে বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায়ের সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন জানিয়েছে সিআইডির বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। মূলত রেজোলিউশন বুকে বিধায়কদের নামের বানানে অসামঞ্জস্য, ক্যাপিটাল ও স্মল লেটারের মিশ্রণ এবং শর্ট সিগনেচারের বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, ৬ মে তাঁরা ওই রেজোলিউশন বুকে স্বাক্ষর করেননি। কার নির্দেশে এবং কীভাবে এই সই জালিয়াতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সন্দেহভাজনদের নথি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সই জালিয়াতির এই ঘটনা দলের অন্দরে এক নতুন ‘ব্যাক-ডেটেট’ সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে। তদন্তকারীরা মোবাইল টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রেজোলিউশন বুকে সইয়ের ক্ষেত্রে অভিষেকের ভূমিকা কতখানি, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন। এই ঘটনার জেরে কেবল আইনি জটিলতাই নয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরের হিসাব-নিকাশও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো সিনিয়র বিধায়কের সই ও তারিখের গরমিলও তদন্তের মোড় ঘোরানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে আসার পর পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।