অনলাইন সেন্টারের আড়ালে নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, গ্রেপ্তার মালিক

তামিলনাড়ুর নেল্লাই জেলার পেট্টাই এলাকায় এক অনলাইন সেবা কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে নারীদের গোপনে অশালীন ভিডিও ধারণ করার মতো জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। ২৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত মোহাম্মদ আশরাফ আলী নিজের দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। স্থানীয় এক তরুণী নিজের কাজে দোকানে গিয়ে বিষয়টি ধরে ফেলার পর তার মোবাইল থেকে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
যেভাবে ফাঁস হলো অপরাধের জাল
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন এক তরুণী তার আধার কার্ডের ফটোকপি করতে আশরাফ আলীর দোকানে যান। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে আশরাফ আলী গোপনে ওই তরুণীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন। তরুণী বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামীকে খবর দেন। স্বামী দোকানদারের মুখোমুখি হলে আশরাফ প্রথমে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার সময় সে তার মোবাইল ফোনটি দোকানেই ফেলে রেখে যায়। তরুণী ও তার স্বামী সেই ফোনসহ স্থানীয় পেট্টাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ফোনটি পরীক্ষা করে ভয়াবহ সব ভিডিও চিত্র দেখতে পায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, শুধু ওই তরুণীই নন, আরও অন্তত ২০ জন নারীর আপত্তিকর ভিডিও তার ফোনে সংরক্ষিত ছিল। এমনকি দোকানের সামনে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় থাকা নারীদেরও সে গোপনে ভিডিও ধারণ করে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিত।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। নতুন ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৭৭ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ধারায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধে পুলিশ তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ডিজিটাল সেবার আড়ালে মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে, এই ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও জব্দ করা মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।