তৃণমূলে বড় রদবদল: নতুন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা, সহ-সভাপতি সুব্রত বক্সী
তৃণমূলের নতুন পথে নতুনের জয়গান! বড় রদবদলে বদলে গেল দলের সমীকরণ
কালীঘাটে আয়োজিত দীর্ঘ বৈঠকের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল দল। শুক্রবার ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির এই বৈঠকের পর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ্যে আনেন। এই রদবদলের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ পরিবর্তন হলো রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি পদে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সুব্রত বক্সীর পদ পরিবর্তন। সুব্রত বক্সী এখন জাতীয় কর্মসমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন তালিকায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ফিরহাদ হাকিমের মতো নেতাদের নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
সাংগঠনিক রদবদলের নেপথ্যে ও প্রভাব
দলীয় সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই নতুন করে সাজানো হয়েছে তৃণমূলের শাখা সংগঠনগুলো। সায়নী ঘোষের নেতৃত্বে যুব কংগ্রেস এবং মালা রায়ের নেতৃত্বে মহিলা কংগ্রেসকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এছাড়াও ছাত্র পরিষদ, শ্রমিক সংগঠন এবং হকার্স সংগঠনের দায়িত্বে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে তৃণমূলের মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনকে তৃণমূলস্তর পর্যন্ত ঢেলে সাজানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রদবদল কেবল নতুন মুখ নিয়ে আসা নয়, বরং নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি অংশ। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি তৈরি করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতারা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।