২০ টাকার অভিযোগ, ৩০ বছরের দীর্ঘ লড়াই: ন্যায় বিচার মিলল, কিন্তু ফিরল না প্রাণ!

২০ টাকার অভিযোগ, ৩০ বছরের দীর্ঘ লড়াই: ন্যায় বিচার মিলল, কিন্তু ফিরল না প্রাণ!

২০ টাকার মিথ্যা অভিযোগে ৩০ বছরের দীর্ঘ লড়াই ও মর্মান্তিক পরিণতি

একটি সামান্য অভিযোগ কীভাবে মানুষের জীবনকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে রইলেন গুজরাটের প্রাক্তন পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি। ১৯৯৬ সালে অহেতুক ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় থেকে শুরু হওয়া আইনি লড়াই তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিজীবনকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। কোর্টের বারান্দায় দশকের পর দশক ঘুরেও তিনি নিজের নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে লড়ে গেছেন।

শেষ রক্ষা হলেও অবশিষ্ট রইল না সময়

দীর্ঘ ৩০ বছর পর ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে গুজরাট হাইকোর্ট অবশেষে মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এবং শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই তাঁর ওপর দীর্ঘকাল এই অভিযোগের বোঝা চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। আদালত তাঁকে যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে নির্দোষ বলে রায় দেয়। দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মোচন হওয়ায় বাবুভাই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর দীর্ঘদিনের আস্থা যে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে, তা তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, দীর্ঘ লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার আনন্দ তিনি দীর্ঘক্ষণ উপভোগ করতে পারলেন না। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার ঠিক পরের দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দশকের পর দশক ধরে চলা মানসিক চাপ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রভাব তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর যে গভীর ছাপ ফেলেছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই তাঁর অকাল প্রয়াণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিচার মিললেও জীবনের শেষ সময়ে এসে সেই ন্যায়ের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ তিনি পেলেন না, যা আইনের দীর্ঘসূত্রতার এক চরম ট্র্যাজেডি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *