মার্কিন হামলার মোক্ষম জবাব! বাহরাইন-জর্ডানে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন-মিসাইল আক্রমণ, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন হামলার মোক্ষম জবাব! বাহরাইন-জর্ডানে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন-মিসাইল আক্রমণ, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দিল ইরান। হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো অঞ্চল এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

কেন এই সংঘাত? সূত্রের খবর, গত দুই দিন আগে ইরানের হাতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘আত্মরক্ষার’ স্বার্থে তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সাইট ও কমান্ড স্টেশন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন দাবি, এটি ছিল একটি ‘আনুপাতিক উত্তর’।

ইরানের পাল্টা আঘাত: মার্কিন এই হামলার পর ইরান বসে থাকেনি। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের জাস্ক, সিরিক ও কেশম অঞ্চলে হামলার বদলা নিতে তারা ভোর ২:৩০ মিনিটে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ওপর ড্রোন হামলা চালায়। সেই সঙ্গে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

আইআরজিসির হুঙ্কার: ইরানের দাবি, মার্কিন বাহিনী কোনো প্ররোচনা ছাড়াই জাস্ক ও সিরিকে টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “মার্কিন সরকার মিথ্যা বাহানা তৈরি করে এই হামলা চালিয়েছে। যদি এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে আরও কঠোর ও ভয়ঙ্কর জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অস্থির মধ্যপ্রাচ্য: ইরানের হামলার পরপরই বাহরাইন সরকার কড়া সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন আশঙ্কা একটাই—এই পাল্টাপাল্টি লড়াই কি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় যুদ্ধের সূচনা করবে? প্রতিটি পদক্ষেপে বাড়ছে উত্তাপ, আর তার আঁচ ছড়াচ্ছে পুরো বিশ্বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *