বিয়ের আসরেই পণের দাবি, গাড়ি না মেলায় মাঝপথেই বিয়ে ভাঙল পাত্রের! হতবাক কনেপক্ষ

পিঁড়িতে বসেই কনের বাবার কাছে পাজেরো গাড়ির দাবি, শেষ পর্যন্ত যা হলো
বিয়ের মণ্ডপে তখন উৎসবের আমেজ। বরযাত্রী এসেছে, মালাবদল হয়েছে, এমনকি বিয়ের পিঁড়িতে বসে দুই পাক ঘোরার কাজও সম্পন্ন। ঠিক তখনই ছন্দপতন ঘটল আগ্রার তাজগঞ্জ এলাকার এক বিয়েবাড়িতে। বিয়ের মাঝপথেই হঠাৎ বর থেমে যাওয়ায় হতবাক হয়ে যান উপস্থিত অতিথিরা। জানা যায়, বরের মায়ের ইশারায় বিয়ের মাঝপথে বর এমন অনড় অবস্থান নেয় যে, কনের বাবার কাছে তৎক্ষণাৎ ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পাজেরো গাড়ির দাবি জানানো হয়।
ইতিমধ্যেই বিয়ের আয়োজনে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করা কনের বাবা এই অযৌক্তিক দাবিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। তিনি হাতজোড় করে বিনতি জানালেও বরপক্ষের মন গলেনি, বরং কনের পরিবারকে অপমান করে বরযাত্রী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বিয়ের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয় কনের পরিবারের জন্য।
সামাজিক বিকৃতি ও আইনের আশ্রয়
এই ঘটনা কেবল একটি বিয়ের বিচ্ছেদ নয়, বরং যৌতুকের লোভের এক চরম নিদর্শন। বিয়ের আসর থেকে এমন দাবির বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত পর্যন্ত গড়ায়। পঞ্চায়েত বরপক্ষকে কনের বাবার ব্যয় করা অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করে। তবে শেষ পর্যন্ত সত্য সামনে আসায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কনের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আইনি পথে বিচার চেয়েছেন। তিনি জানান, কন্যার বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় কষ্ট পেলেও, এমন লোভী পরিবার থেকে মেয়েকে রক্ষা করতে পেরে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।
যৌতুক প্রথাকে ঘিরে এমন অমানবিক আবদার সমাজে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিবারগুলোর মধ্যে সম্পর্কের চেয়ে লেনদেনের গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় বিয়ের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক চুক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজ সচেতনদের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমেই কেবল কনের পরিবারকে এমন লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।