নবান্নের বৈঠক শেষে কুণালের মুখে শুভেন্দুর প্রশংসা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্নে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় সামনে এল। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সদিচ্ছার ভূয়সী প্রশংসা করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো প্রথম সারির বিরোধী বিধায়ক নবান্নের বৈঠক শেষে প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ইতিবাচক ভূমিকার কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলেন।
কুণালের অনুরোধে পুলিশের ওপর মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
নবান্নের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের অভাব-অভিযোগ ও এলাকার সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কুণাল ঘোষের দাবি, বৈঠকে তিনি স্বয়ং বিরোধী বিধায়কদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে উত্থাপন করেন। তাঁর সেই বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যাতে তারা বিরোধী বিধায়কদের ফোন ধরেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রুখতে ইতিবাচক সাড়া
শুধু ফোন ধরাই নয়, কুণাল ঘোষ আরও জানান যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্দোষ মানুষ যাতে অযথা হেনস্থা বা গ্রেফতারির শিকার না হন, সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন। এই প্রসঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়া পেয়েছেন বলে দাবি করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, সেই আশ্বাসও নবান্নের বৈঠক থেকে মিলেছে বলে ইঙ্গিত দেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক বিধায়কদের বিদ্রোহ ও সই জাল কাণ্ড নিয়ে সিআইডি তদন্তের জেরে অস্বস্তি বাড়ছে, তখন কুণাল ঘোষের নবান্নের বৈঠকে যোগ দেওয়া এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করা অত্যন্ত অর্থবহ। একদিকে, বিরোধী বিধায়কদের অভাব-অভিযোগ শোনার এই নির্দেশকে রাজ্যের নতুন সরকারের একটি বড় প্রশাসনিক ও কৌশলগত চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে তৃণমূলের নিজস্ব সাংগঠনিক ঐক্যে আরও বড় ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হলো। অধিবেশন শুরু হওয়ার মুখে কুণাল ঘোষের এই ‘ইতিবাচক’ অবস্থান জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।