ফ্ল্যাট দখল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ! গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার আইনি ফাঁসে জড়ানোর তালিকায় এবার যুক্ত হলো নতুন নাম। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক ফ্ল্যাট দখল করে রাখা এবং বাড়ির মালকিনকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো বর্ষীয়ান তৃণমূল (TMC) নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সল্টলেক এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
ফ্ল্যাট ফেরত চাওয়া নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় বচসা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের আসল মালকিন আরতি রায়চৌধুরী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই জয়প্রকাশ মজুমদারের কাছ থেকে নিজেদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বুধবার প্রকাশ্য রাস্তায় ওই নেতার মুখোমুখি হন মালকিনের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা জয়প্রকাশ মজুমদারকে অবিলম্বে ফ্ল্যাটের তালা খুলে চাবি হস্তান্তর করার দাবি জানান। এই দাবিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি ও বচসা শুরু হয়।
পুলিশের সামনেই ‘চোর’ স্লোগান, অতঃপর গ্রেফতার
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে জয়প্রকাশ মজুমদারকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত জনতা এবং পরিবারের সদস্যরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনার পর পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা— যার মধ্যে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের মতো জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে, তার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ধরনের সম্পত্তি দখল বা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল, এই ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ-প্রশাসন যেভাবে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়া প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই গ্রেফতারির ফলে রাজ্যের অন্যান্য কোণায় আটকে থাকা জমি বা ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারি নিয়েও সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করবেন, যা বর্তমান শাসক শিবিরের দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তিকে আরও জোরদার করবে।