দলীয় কোন্দলে উত্তাল বিধানসভা, এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বাড়িতে ইডি!

দলীয় কোন্দলে উত্তাল বিধানসভা, এবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বাড়িতে ইডি!

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন তোলপাড়। বিধানসভায় দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার ডামাডোলের মধ্যেই এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংসদকে ইডির পক্ষ থেকে নতুন করে সমন পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিকেলে ইডির দুই আধিকারিক দক্ষিণ কলকাতায় অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসে পৌঁছান এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে সমনের নোটিস তুলে দেন।

রাজনৈতিক ডামাডোল ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা

বুধবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা ছিল। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং বিধায়কদের সই বিতর্ক নিয়ে শাসকদলের অন্দরে বিদ্রোহের আবহ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এই রাজনৈতিক পর্যালোচনার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তাঁর বাসভবনে হানা দেয় ইডি। সেখানে সাংসদকে না পেয়ে আধিকারিকরা কালীঘাটের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং শেষ পর্যন্ত আইনি নোটিসটি হস্তান্তর করতে সক্ষম হন।

তদন্তের কারণ ও জোড়া আইনি জটিলতা

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের স্বার্থেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় তলব করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এছাড়া কয়লা পাচার মামলাতেও এর আগে একাধিকবার অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

নতুন এই সমনের পাশাপাশি অন্য একটি সই জালিয়াতির মামলায় সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে অভিষেককে। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডির ভবানী ভবনের হাজিরা এড়িয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন তিনি। এরপরই সিআইডির নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সেটি খারিজের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেকের আইনজীবী। আদালত আগামী ৫ জুন এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংগঠন ভেঙে যাওয়া, আর অন্যদিকে সিআইডি ও ইডির মতো জোড়া তদন্তকারী সংস্থার সাঁড়াশি চাপ—সব মিলিয়ে চরম রাজনৈতিক ও আইনি সংকটে পড়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *