ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে এবার চারতলার অন্ধকার জগৎ, কাটমানি ও ছাত্রীদের শোষণের পর্দাফাঁস
.jpg.webp?w=900&resize=900,596&ssl=1)
কলকাতার ১৪৪ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে আর্থিক কেলেঙ্কারির পর এবার সামনে এল ছাত্রীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক শোষণ এবং ভর্তির নামে লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানি চক্রের ভয়াবহ চিত্র। পাঁচতলার বিতর্কিত ‘শোয়ার ঘর’ এবং ইউনিয়ন রুম থেকে সুটকেস ভর্তি টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, কলেজের চারতলাকে ঘিরে এই নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, পঠনপাঠনের আড়ালে চারতলার ক্লাসরুমগুলিতে নিয়মিত বহিরাগত ও প্রভাবশালী প্রাক্তন ছাত্রদের দৌরাত্ম্য চলত।
ভয়ের আবহে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেল ও সালিশি সভা
শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের তালিকা তৈরি করে নানা অজুহাতে সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক শোষণ করা হত। প্রতিবাদ করলে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হত। অভিযোগ, এক ছাত্রী এই চক্রের শিকার হয়ে প্রতিবাদ করলে তৎকালীন কলেজ পরিচালন সমিতির সরকারি প্রতিনিধি তথা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সালিশি সভার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেন। রাজ্য রাজনীতির এই ক্ষমতাশালী নেতার ভয়ে এতদিন শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী, কেউই মুখ খোলার সাহস পাননি।
ভর্তির নামে লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানি ও দুর্নীতি
কলেজে কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু থাকা সত্ত্বেও কিছু আসন গোপনে আটকে রেখে লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানি চক্র চালানো হত বলে অভিযোগ উঠেছে। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তির জন্য এক পড়ুয়ার মার্কশিট আটকে রেখে ৬০ হাজার টাকা আদায় করা এবং ভূগোলে ভর্তির জন্য দেড় লক্ষ টাকা দাবি করার মতো ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এক তৃণমূল সাংসদের সুপারিশে সেই টাকা মকুব হয় বলেও জানা গেছে। মূলত রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কলেজ প্রশাসনের একাংশের পরোক্ষ মদতেই এই ধরনের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।
ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
এই ঘটনার প্রতিবাদে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) কলেজে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোসহ ছাত্র সংসদের তহবিলের টাকা অডিটের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ কর্তৃপক্ষ গোটা ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানো, বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে বিশেষ চিপযুক্ত পরিচয়পত্র এবং ‘ভিজিটর স্লিপ’ চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, কলেজ পরিচালন সমিতির সরকারি প্রতিনিধি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিতোষ দত্তের বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।