ঘরে বসেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন, তবে ফর্ম পূরণে মানতে হবে বিশেষ নিয়ম!

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই ফর্ম পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনের জটিলতা এড়াতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি আবেদনকারীর তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তবেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো হবে।
আবেদন পদ্ধতি ও সময়সীমা
প্রকল্পের ফর্মটি ইতিমধ্যেই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তবে যারা অফলাইনে আবেদন করতে চান, তাদের সুবিধার্থে ব্লক বা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং বিএলও-রা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। পূরণ করা ফর্মটি পুনরায় তাদের কাছেই জমা দেওয়া যাবে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য উপভোক্তারা হাতে পর্যাপ্ত সময় অর্থাৎ ৯০ দিন পাবেন। তাড়াহুড়ো না করে সঠিক তথ্য দেওয়াই এই সময়ের মধ্যে মূল লক্ষ্য। প্রতিটি ব্লকে জমাপড়া ফর্ম জেলাশাসকের মাধ্যমে যাচাইকরণের পর উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো শুরু হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্যের বিবরণ
আবেদন প্রক্রিয়াটি নির্ভুল করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই নিজের ভোটার কার্ড (EPIC নম্বর), মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ এবং পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের বিবরণ জমা দিতে হবে। এছাড়া পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং ডিজিটাল রেশন কার্ডের নম্বরসহ সেটি কোন শ্রেণির আওতাভুক্ত, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও যাচাইকরণ
আর্থিক লেনদেন সরাসরি সম্পন্ন করার জন্য পরিবারের প্রধান এবং প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি (IFSC) কোড সতর্কতার সাথে ফর্মে লিখতে হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য পরিবারের কাছে সরাসরি সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।