চিনির ভীতি দূর করবে খাদ্যাভ্যাসের সঠিক নিয়ম! গ্লুকোজের ওঠানামা রুখতে নতুন পরামর্শ চিকিৎসকদের

চিনির ভীতি দূর করবে খাদ্যাভ্যাসের সঠিক নিয়ম! গ্লুকোজের ওঠানামা রুখতে নতুন পরামর্শ চিকিৎসকদের

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রিয় মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকা বা গ্লুকোজের আকস্মিক বৃদ্ধি (স্পাইক) এড়াতে চিনিকে জীবন থেকে একেবারে নির্বাসিত করার প্রয়োজন নেই। চিনি পুরোপুরি বর্জনের চেয়ে এটি কখন এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেই সঠিক নিয়মটি জানাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের আসল চাবিকাঠি।

খালি পেটে মিষ্টি খাওয়ার বিপদ ও সুগার ক্র্যাশ

সকালের শুরুতেই ডোনাট, পেস্ট্রি বা যেকোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। খালি পেটে চিনি খাওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বেড়ে যায়। এর ঠিক ৯০ মিনিট পর শর্করার সেই মাত্রা আবার আচমকা নিচে নেমে যায়, চিকিৎস বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘সুগার ক্র্যাশ’ বলা হয়। এই আকস্মিক ওঠানামার কারণে শরীরে ক্লান্তি ভর করে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সারাদিন বারবার মিষ্টি খাওয়ার তীব্র প্রবণতা তৈরি হয়।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও শর্করার ভারসাম্য

রক্তে শর্করার এই ক্ষতিকর ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা মূল খাবারের পর ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। খাবারের প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্লুকোজের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ লাফিয়ে বাড়তে পারে না। এ কারণে সকালের নাশতায় মিষ্টির পরিবর্তে ডিম, দই, বাদাম ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি। চিনি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার এবং খাবার গ্রহণের সঠিক সময় বজায় রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তবে যেকোনো বিপাকীয় রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *