মমতার বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশ, অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির

মমতার বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশ, অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির

বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে পূর্বঘোষিত ধর্নামঞ্চে বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী পরাজয়ের পর এই প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এক অভিযুক্তের গ্রেফতারির পর দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কী গোপন কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে এনেছেন মমতা। দেশের স্বার্থে কারও নাম না নিলেও তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব যেখানে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে রাজনীতির স্বার্থে একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া সংবেদনশীল আলোচনা প্রকাশ্যে আনা দেশের সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

দলভাগ ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিতর্কিত মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন ব্লক গঠন করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি বিরোধী দলনেতার তকমাও পেয়েছেন। এই নতুন পরিস্থিতি দলীয় রাজনীতিতে মমতার অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দায়িত্ব এড়াল নতুন ব্লক

রাজনৈতিকভাবে এই মন্তব্যের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। নতুন ব্লকের বিধায়করা মমতাকে পরামর্শদাতা হিসেবে মানতে রাজি হলেও তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যের দায় নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেউ যদি এই ধরণের বিতর্কিত মন্তব্য করে থাকেন, তবে তার ব্যক্তিগত দায় তাঁর নিজেরই, নতুন পরিষদীয় দল এর কোনও দায়ভার বহন করবে না। ফলে এই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিতর্কের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে কার্যত একঘরে হয়ে পড়ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *