গয়েরকাটায় সরকারি ফাইল হাতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন দিদিমণি, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

জলপাইগুড়ির গয়েরকাটা গার্লস হাইস্কুলের সরকারি নথি বাইরে পাচার করার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কণিকা রায়কে স্কুলের জরুরি নথিপত্রসহ হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে এলাকায় তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।
নেতার বাড়িতে ফাইল পাচারের অভিযোগ ও বয়ান বদল
অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কণিকা রায় স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে তৃণমূল নেতা তথা স্কুলের পরিচালন সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মানস রঞ্জন ঠাকুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সেই সময় বিজেপি নেতারা তাঁকে পথেই আটকান। তল্লাশি চালাতেই তাঁর হাতের ফাইল থেকে স্কুলের একাধিক সরকারি কাগজপত্র উদ্ধার হয়।
আটকের পর প্রধান শিক্ষিকা দফায় দফায় নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন ফাইলগুলো তাঁর ব্যক্তিগত এবং তিনি কোনো নেতার বাড়ি যাচ্ছেন না। এর কিছুক্ষণ পরেই আবার জানান, প্রাক্তন সভাপতির সই করানোর জন্য তিনি যাচ্ছিলেন। কিন্তু সই করানোর জন্য কেন স্কুলের বাইরে ফাইল নিয়ে যেতে হবে, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। এমনকি সই করাতে গেলেও কেন স্কুলের সিলমোহর সাথে নেননি, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, স্কুলের নথিপত্র কোনো শিক্ষিকার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং স্কুল কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হতে পারে পারে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্তন কোনো কর্মকর্তার সই প্রয়োজন হলে তাঁর স্কুলে আসার কথা, স্কুলের ফাইল বাইরে যাওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। বিরোধীদের অভিযোগ, অতীতে হওয়া কোনো বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি ঢাকতেই তড়িঘড়ি এই সরকারি ফাইল সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। সই ও সিলের অজুহাতে নতুন কোনো জালিয়াতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল বলেও তাঁদের অনুমান।
ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন সভাপতি মানস রঞ্জন ঠাকুরের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সরকারি স্কুলের গোপনীয় ও জরুরি নথি এভাবে বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।