রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন স্নেহাশিস, বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন স্নেহাশিস, বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তন ও ওলটপালটের ইঙ্গিত দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বুধবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি আর রাজনীতি করবেন না এবং মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছেন। ২০১১ সালে হুগলির জাঙ্গিপাড়া থেকে প্রথমবার বিধায়ক হওয়া স্নেহাশিস ২০২২ সালে পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে তাঁর মেয়াদে সরকারি বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পরিবহণক্ষেত্রে লোকসানের মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রসেনজিৎ বাগের কাছে ৮৬২ ভোটে পরাজিত হওয়ার পরই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী বিপর্যয় এবং মন্ত্রিত্বকালের পারফরম্যান্স নিয়ে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া চাপই স্নেহাশিসকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তৃণমূলে আনুষ্ঠানিক ভাঙন ও নতুন বিরোধী শিবির

নির্বাচনে শাসকদলের ভরাডুবির ঠিক এক মাসের মাথায় বুধবার বিধানসভায় এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়ে নতুন বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি ছিনিয়ে নিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বৈঠকের পর ঋতব্রত এবং তাঁর শিবিরের যুক্তিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সহকারী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আর এক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সন্দীপন সাহা। বিধানসভার কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠকের পর স্পিকারের অনুমোদন মিলতেই নতুন বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত ঘরে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদ্রোহী বিধায়কেরা।

রাজনৈতিক সমীকরণের বদল ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরে এই ব্যাপক ভাঙন এবং ৫৮ জন বিধায়কের দলত্যাগ রাজ্যের শাসক শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। একদিকে যেমন স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো প্রবীণ নেতার সরে যাওয়া দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে স্পষ্ট করছে, অন্যদিকে ঋতব্রতের নেতৃত্বে নতুন বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি হওয়ায় বিধানসভার অন্দরে শক্তির ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে গেল। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের নীতি নির্ধারণ ও আইনসভার কার্য পরিচালনায় শাসকদলকে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *