বজ্রপাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থমকে যেতে পারে বিশ্বকাপ ফুটবল!

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের একটি নিয়ম নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ মাঝপথে থেমে গেলে তা কতক্ষণ পর আবার শুরু হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা রাখেনি ফিফা। ফলে বজ্রপাত বা চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো ম্যাচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে থাকার এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উত্তর আমেরিকার বজ্রঝড় সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, কোনো স্টেডিয়ামের আট মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে বজ্রপাত হলে তাৎক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ করার নিয়ম রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের দ্রুত ড্রেসিংরুমে এবং দর্শকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ৩০ মিনিটের কাউন্টডাউন। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো বাজ না পড়লে তবেই খেলা পুনরায় শুরু করা যায়। কিন্তু ৩০ মিনিট শেষ হওয়ার আগে পুনরায় বজ্রপাত হলে ঘড়ির কাঁটা আবার শূন্য থেকে শুরু হয়। ফলে বারবার বজ্রপাত হতে থাকলে এই অপেক্ষার পালা অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ফিফার নিয়ম ও সূচি বিপর্যয়ের শঙ্কা
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার নীতিমালায় এমন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই, যার ওপর ভিত্তি করে একটি ম্যাচকে সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা যায়। ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি পরিস্থিতিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ম্যাচ স্থগিত বা বাতিল করা হলে পরবর্তী সময়ে টুর্নামেন্টের ঠাসা সূচি নতুন করে সাজানো আয়োজকদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসি বনাম বেনফিকা ম্যাচে এই নিয়মের জেরে খেলা শেষ হতে ৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট সময় লেগেছিল, যেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।
আবহাওয়ার প্রস্তুতি ও তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিফা ইতিমধ্যে আয়োজক তিন দেশের আবহাওয়া ও জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য জরুরি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দর্শক সরিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে শুধু বজ্রপাতই নয়, উত্তর আমেরিকার অতিরিক্ত গরম ও তাপপ্রবাহও এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম চিন্তার কারণ। ফিফা জানিয়েছে, খেলা চলাকালীন রিয়েল-টাইম তথ্যের ভিত্তিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে জরুরি বিরতি বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আকাশের মেজাজও এবার বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে।