বিকল্পহীন উচ্ছেদে না! যাদবপুরে ছাত্র-জনতার অটল প্রতিরোধে স্থগিত রেলের উচ্ছেদ অভিযান

বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই যাদবপুরে উচ্ছেদ অভিযান, আন্দোলনের চাপে পিছু হটল রেল
যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা আপাতত স্তিমিত হলো। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের জন্য হাজির হলেও, তীব্র জনরোষ এবং ছাত্র ও বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলো তারা। আইনি লড়াই এবং রাতভর চলা লাগাতার আন্দোলনের জেরেই কার্যত থমকে গেল এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া।
আন্দোলনের মুখে থমকে বুলডোজার
দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করা হকারদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব না রেখেই হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সোচ্চার হন স্থানীয় মানুষ, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সৃজন ভট্টাচার্যদের নেতৃত্বে রাতভর চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জনবিক্ষোভের সামনে পড়ে গভীর রাতে ফিরে যেতে হয় বুলডোজার বাহিনীকে। রেলের এই পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হকারদের মধ্যে বিজয় উল্লাস শুরু হয়।
জাতীয় স্তরে প্রতিবাদের সুর
এই ঘটনার আঁচ পৌঁছেছে জাতীয় রাজনীতির আঙিনাতেও। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজস্থানের সিকারের সিপিএম সাংসদ অমরা রাম। তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অবিলম্বে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। কেন বিকল্প ব্যবস্থা না করে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজিতে আঘাত আনা হচ্ছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সংকট
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। রেলের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন হকারদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছিল, অন্যদিকে জনরোষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। আপাতত উচ্ছেদ স্থগিত হলেও, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। হকারদের পুনর্বাসনের দাবি এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে এক বড় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।