ট্যাক্স ছাড়ের মাস্টারস্ট্রোকে বিদেশি পুঁজি টানার বড় উদ্যোগ কেন্দ্রের, ফিরবে কি অর্থনীতির গতি

দেশের বাজার থেকে হু হু করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন চলে যাওয়া রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের জেরে যখন দেশীয় অর্থনীতি ও টাকার মূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) জন্য ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আয়কর আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একটি অর্ডিন্যান্স জারিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই কার্যকর হবে।
বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ধাক্কা ও সরকারি পদক্ষেপের কারণ
চলতি ২০২৬ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নেওয়ায় দেশের আর্থিক বাজারে বড়সড় সংকট তৈরি হয়। এর ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও বন্ডে ১২ মাসের বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১২.৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হয়। এই উচ্চ কর কাঠামোর কারণেই মূলত বিদেশিরা ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ঋণ বাজারে (ডেবট মার্কেট) লিকিউডিটি বা তারল্য বাড়াতে সরকার এই কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, সরকারি বন্ড থেকে অর্জিত সুদের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর বিষয়টিকেও সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বন্ডে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স সম্পূর্ণ বিলোপ করার ফলে ভারতীয় বন্ড বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এর সরাসরি প্রভাবে দেশে বিপুল পরিমাণ ডলারের আমদানি ঘটবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাকার বিনিময় মূল্যকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত মূলধন দেশের অর্থনীতিতে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তবে এই ট্যাক্স ছাড়ের সুফল কতটা দ্রুত বাজারে প্রতিফলিত হয় এবং তা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কতটা ত্বরান্বিত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।