তাজপুর বাতিল, গভীর সমুদ্রবন্দর এবার দাদনপাত্রবারে, কলকাতায় আসছে ওয়াটার মেট্রো

তাজপুর বাতিল, গভীর সমুদ্রবন্দর এবার দাদনপাত্রবারে, কলকাতায় আসছে ওয়াটার মেট্রো

পূর্বতন সরকারের আমল থেকে চলে আসা দীঘার তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর পরিকল্পনা জমি-জটের কারণে অবশেষে বাতিল করল রাজ্যের নতুন সরকার। তবে শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে এই মেগা প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবারে এই বন্দর নির্মাণ করা হবে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

শিল্পায়নের স্বার্থে এই বন্দর প্রকল্পে গতি আনতে সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ কর্তা করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আলোচনার সূত্র ধরে তিনি জানান, পর্যাপ্ত জমি না থাকার কারণেই আদানিরা এক সময় তাজপুর প্রকল্প থেকে কার্যত সরে গিয়েছিলেন। এই সমস্যার সমাধানে নতুন রাজ্য সরকার দাদনপাত্রবারে ১৭০০ একর জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই জমিতেই এখন গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

কলকাতায় আধুনিক ওয়াটার মেট্রো

সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি কলকাতার জলপথ পরিবহণেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়ালের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এবার ‘ওয়াটার মেট্রো’ চেইনের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে কলকাতা। কেরলসহ দেশের ১৭টি জায়গায় ইতিমধ্যেই এই আধুনিক জল-মেট্রো প্রকল্প চালু রয়েছে, যা এবার কলকাতাবাসীও ব্যবহার করতে পারবেন।

পূর্বতন রাজ্য সরকারের কেন্দ্রীয় প্রকল্পবিমুখ নীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান সরকার উন্নয়নের স্বার্থে সহযোগিতার পথেই হাঁটবে। এবার থেকে ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে রাজ্যে ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি জাতীয় জলপথে আরও ২৫টি নতুন জেটি তৈরি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আলাদা হচ্ছে জাহাজ চলাচল দফতর

রাজ্যের সামগ্রিক জলপথ ও বন্দর পরিকাঠামোকে আরও পেশাদারভাবে পরিচালনা করতে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। বর্তমানে পরিবহণ ও শিপিং (জাহাজ চলাচল) বিভাগ একসঙ্গে কাজ করলেও, কাজের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে ‘শিপিং’কে একটি সম্পূর্ণ আলাদা দফতর হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা চলছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বন্দর ও জলপথ পরিকাঠামো উন্নয়ন আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *