নারীদের জন্য কেন দরকার বাড়তি এক ঘণ্টা ঘুম!

সাধারণত সুস্থ থাকার জন্য প্রতি রাতে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রতি রাতে প্রায় ২০ থেকে ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত ঘুমের প্রয়োজন। পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্র ও সন্তানের যত্ন একহাতে সামলাতে গিয়ে নারীদের ওপর যে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ‘হাই মেন্টাল লোড’ তৈরি হয়, তা থেকে শরীর ও মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই বাড়তি সময়ের প্রয়োজন। একে অবহেলা করলে নারীদের মেটাবলিজম ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
জৈবিক গঠন ও বাড়তি ঘুমের কারণ
লফবোরো ইউনিভার্সিটির স্লিপ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী, সারাদিনে মস্তিষ্ক যত বেশি ব্যবহৃত হয়, রাতে তা মেরামতের জন্য তত বেশি ঘুমের প্রয়োজন। নারীরা স্বভাবগতভাবে একসঙ্গে একাধিক কাজ বা ‘মাল্টিটাস্কিং’ করায় মস্তিষ্কের ‘সেরিব্রাল কর্টেক্স’ অংশটি পুরুষদের চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। গভীর ঘুমের সময় এই কর্টেক্স নিজেকে মেরামত ও কোষের বর্জ্য পরিষ্কার করে। এছাড়া নারীদের শরীরের হরমোনের তারতম্য ঘুমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রায় ৬ মিনিট ছোট হওয়ায় রাত জাগলে তাঁদের ভেতরের শারীরিক রুটিন দ্রুত বিগড়ে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুমের সুফল ও কম ঘুমের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি
রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালে মস্তিষ্কের ইমোশনাল প্রসেসিং হাব ‘অ্যামিগডালা’ পুনরুজ্জীবিত হয়, যা মানসিক চাপ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘লেপটিন’ ও ‘ঘ্রেলিন’ সুস্থিত রেখে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।
বিপরীতে, নিয়মিত ঘুমের অভাব ঘটলে শরীরে ক্ষতিকর চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়। স্বল্পমেয়াদে প্রচণ্ড ক্লান্তি, মুড সুইং এবং তীব্র ‘ব্রেন ফগ’ বা চিন্তা করার অক্ষমতা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অবসাদ এবং উদ্বেগের মতো গুরুতর ব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, নারীরা ঘুমের অভাবজনিত শারীরিক ও মানসিক পরিণতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই জটিল রোগবালাই থেকে বাঁচতে পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি নারীদের ঘুমের পরিবেশ ও বাড়তি ঘুমের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।