বিধাননগরে ধাক্কা শাসকদলের, এবার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক ওলটপালট শুরু হয়েছে। চন্দননগরের পর এবার বিধাননগর পৌর কর্পোরেশনেও বড়সড় ভাঙন দেখল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি এদিন পৌর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি তার প্রতিলিপি নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল এবং উক্ত দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের কাছেও পাঠিয়েছেন।
পুর কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়রের পদত্যাগপত্রে ইস্তফার কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দর্শানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে সব পৌরসভাতেই শাসকদলের শোচনীয় পরাজয়ের জেরেই এই পদত্যাগ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী অবশ্য জানান যে, তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করছেন। বিগত ১৬ বছর ধরে এই পদের দায়িত্ব সামলানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়র পদ ছাড়লেও একজন কাউন্সিলর হিসেবে বিধাননগরের মানুষের জন্য তাঁর কাজ বরাবরের মতোই জারি থাকবে।
তীব্র কটাক্ষ বিরোধী শিবিরের
এই রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নির্বাচনের হারের পর মুখ লুকাতে এবং দায় এড়াতেই এখন ক্ষমতা ছেড়ে পালাবার চেষ্টা করছেন তৃণমূলের মেয়রেরা। ঘটনার জেরে বিধাননগর পৌর কর্পোরেশনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
কলকাতা পৌর কর্পোরেশনেও ফিরহাদকে ঘিরে ধোঁয়াশা
বিধাননগরের এই ডামাডোল ওলটপালট করে দিয়েছে রাজ্যের পুর রাজনীতির হিসাব নিকাশ। এরই মাঝে কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও ফিরহাদ হাকিম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি, তবে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের একটি দাবি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। কুণাল ঘোষ জানান, মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন এবং নেত্রী সেই অনুমতি মঞ্জুরও করেছেন। যদিও এই বিষয়ে খোদ ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন যে, জল্পনা যাই থাকুক না কেন, তিনি এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ইস্তফাপত্র পেশ করেননি। সব মিলিয়ে, কলকাতার মেয়রের ভাগ্য ঝুললেও বিধাননগরের মেয়রের এই আচমকা পদত্যাগ শাসকদলের অন্দরের গভীর সঙ্কটকেই প্রকাশ্যে এনে দিল।