১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার গরমিল! রাজেশ এক্সপোর্টসের উপর বড় পদক্ষেপ সেবির

১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার গরমিল! রাজেশ এক্সপোর্টসের উপর বড় পদক্ষেপ সেবির

শেয়ার বাজারে নজিরবিহীন জালিয়াতি, রাজেশ এক্সপোর্টস ও তার চেয়ারম্যানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সেবির

শেয়ার বাজারে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে বেঙ্গালুরুভিত্তিক সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ এবং এর চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি। গত ৩ জুন জারি করা এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সংস্থা ও এর প্রধানের ওপর পুঁজিবাজারে সরাসরি লেনদেন ও অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার দায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৫ লক্ষ কোটির বিপুল জালিয়াতি

সেবির তদন্তে উঠে এসেছে যে, টানা পাঁচটি অর্থবর্ষ জুড়ে সংস্থাটি তাদের আর্থিক নথিপত্রে চরম কারচুপি করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে এই সময়ে যে ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার আয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে, তা মূলত কাল্পনিক বা জালিয়াতির ফসল বলে অভিযোগ। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মতে, টাকার এই অংকটি এতটাই বিশাল যে তা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মোট বার্ষিক জিডিপি বা অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়েও বেশি। এই অস্বাভাবিক অংক দেখে খোদ সেবির কর্মকর্তারাও বিস্মিত।

বাজারের স্থিতিশীলতায় বড় ঝুঁকি

এই জালিয়াতির প্রভাব শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থার শেয়ারের ওপরই নয়, বরং সামগ্রিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার ওপরও পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে পরিচালিত করে কৃত্রিমভাবে আয়ের হিসাব দেখানোর মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের জেরে কো ম্পা নির অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং অডিট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সেবির এই পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই জালিয়াতি ভারতীয় শেয়ার বাজারের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *