দলবদলের খেলায় অক্সিজেন পেল দিল্লি, ২০২৯ সালের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে মরিয়া কেন্দ্র

দলবদলের খেলায় অক্সিজেন পেল দিল্লি, ২০২৯ সালের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে মরিয়া কেন্দ্র

মাত্র মাসদেড়েক আগের ধাক্কা ভুলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহকে হাতিয়ার করে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাসের লক্ষ্যে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই বিতর্কিত বিল সংসদে পাস করিয়ে তা কার্যকর করতে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র। গতবার যে বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্ব সংকটকে কাজে লাগিয়েই এবার ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।

আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন আদায়ের কৌশল

সূত্রের খবর, বিল পাসের ক্ষেত্রে এবার কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কেন্দ্র। গতবারের মতো রাজনৈতিক মতবিরোধ এড়াতে দেশের একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছে মোদি সরকার। সব দলের মতামত ও সমর্থন নিয়ে এমন একটি আবহ তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যাতে মনে হয় রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে সব পক্ষই আসন পুনর্বিন্যাসের পক্ষে সায় দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র বেশ কিছু দলের থেকে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে বলে জানা গেছে।

তৃণমূল ও ডিএমকে শিবিরের কোণঠাসা অবস্থাই হাতিয়ার

এই রণকৌশলে মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর দুই প্রধান আঞ্চলিক দল তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি। সম্প্রতি দুই রাজ্যেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এই দুই দল। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট ভেঙে যাওয়ার পর সেখানকার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর একের পর এক বিধায়ক দল ছাড়ছেন এবং বহু সাংসদও দলত্যাগের লাইনে রয়েছেন বলে খবর। এই ভাঙনের সুযোগেই বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাবল জোগাড় করা সহজ হবে বলে মনে করছে শাসক শিবির।

অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা

গত এপ্রিল মাসে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল একসঙ্গে সংসদে পেশ করেছিল কেন্দ্র। সে সময় ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়েছিল ২৩০টি ভোট। বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫৩টি ভোটের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া সম্ভব হয়নি, যার ফলে সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছিল মোদি সরকারকে। অতীতের সেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার সম্পূর্ণ সাফল্য নিশ্চিত করেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সংসদে বিলটি পুনরায় পেশ করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *