হোয়াইট হাউসে মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এল বড় সুখবর

হোয়াইট হাউসে মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এল বড় সুখবর

বিশ্বের কূটনৈতিক মানচিত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অবস্থান যে উত্তরোত্তর শক্তিশালী হচ্ছে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে নিজের ‘ভাল বন্ধু’ বলে অবিহিত করেছেন। দুই নেতার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে বলেও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারত ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক জটিলতা দূর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের সমীকরণ

অতীতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, অতীতে ভারত আমেরিকার সামগ্রীর উপর প্রচুর শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা পেয়ে এসেছে, যার বিপরীতে আমেরিকা প্রায় কিছুই পায়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং আমেরিকা এখন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। এই বাণিজ্যিক সমীকরণের মধ্যেও সকলকে আশ্বস্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে দুই দেশ শেষ পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাবেই। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক সুসম্পর্ক এই চুক্তি প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।

চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য প্রভাব

সম্প্রতি ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চার দিনের একটি ফলপ্রসূ বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদের এই বৈঠকে পণ্য বাণিজ্য, শুল্ক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন যে, আলোচনা এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মাত্র কয়েকটি বিষয়ের সমাধান বাকি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও অধিকাংশ বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেও কিছুটা অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ ৬০টি দেশের আমদানির ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *