১০ বছর ধরে ভারতে ‘পাক্কা ভারতীয়’ সেজে বসবাস, সামশেরগঞ্জে বাংলাদেশি রুবেলের পর্দা ফাঁস হতেই চোখ কপালে পুলিশের!

১০ বছর ধরে ভারতে ‘পাক্কা ভারতীয়’ সেজে বসবাস, সামশেরগঞ্জে বাংলাদেশি রুবেলের পর্দা ফাঁস হতেই চোখ কপালে পুলিশের!

মুর্শিদাবাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া সামশেরগঞ্জে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ রুবেল হক, যার আসল বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায়। গত প্রায় এক দশক অর্থাৎ ১০ বছর আগে কোনো রকম বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন ওই যুবক। তারপর থেকেই তিনি সামশেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত নতুন জালাদিপুর এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে বসবাস করছিলেন।

জাল নথির সাহায্যে ষড়যন্ত্রের জাল

পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামশেরগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে থাকার সুবাদে রুবেল ভারতীয় সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন। তিনি ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও ভুয়ো পরিচয়পত্র বেআইনি উপায়ে সংগ্রহ করেছিলেন। সেই সমস্ত জাল ভারতীয় নথি ব্যবহার করেই তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজেকে খাঁটি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে এই বিষয়ে একটি গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য সূত্র মারফত খবর আসে। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। সামশেরগঞ্জ থানার গোয়েন্দারা ওই যুবকের ওপর গোপনে কড়া নজরদারি শুরু করেন এবং তাঁর সমস্ত নথিপত্র ও গতিবিধি ট্র্যাক করা হয়।

ঝটিকা অভিযানে গ্রেপ্তার ও সম্ভাব্য প্রভাব

গোপন তদন্তে ওই যুবকের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের সপক্ষে অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ হাতে আসার পরই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। বুধবার রাতে সামশেরগঞ্জের নতুন জালাদিপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম। এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেখান থেকেই মোহাম্মদ রুবেল হককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ভারতীয় সরকারি নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই সমস্ত নথির সত্যতা ও উৎস খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

সীমান্তবর্তী এলাকায় এভাবে বছরের পর বছর ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে বসবাস করার ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে। এই চক্রের পেছনে স্থানীয় কোনো দালাল বা জাল নথি প্রস্তুতকারক চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের ফলে সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *