“ভয়ের সাম্রাজ্য শেষ,” স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক অপরাজিতা আঢ্য

“ভয়ের সাম্রাজ্য শেষ,” স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক অপরাজিতা আঢ্য

ভয়ের রাজ্য কায়েম করেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস, বিস্ফোরক অপরাজিতা

নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। একজন মেকআপ আর্টিস্টের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি, অশালীন আচরণ এবং মারধরের মতো গুরুতর সব অভিযোগে অভিযুক্ত স্বরূপের এই গ্রেফতারিকে ঘিরে টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

ভয়ের সংস্কৃতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি

স্বরূপের গ্রেফতারির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। অপরাজিতা বলেন, যে শিল্পী বা কলাকুশলী স্বরূপের কথা মতো চলতেন না, তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। দিনের পর দিন এই অশুভ চক্র টলিউডকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। অভিনেত্রীর কথায়, ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের পায়ের তলায় রাখার চেষ্টা করতেন তিনি, আর যারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন, তাঁদের সরাসরি ব্যান করে দেওয়া হতো।

প্রযোজক ও শিল্পীদের ওপর চরম নির্যাতন

শুধু শিল্পী নয়, স্বরূপ বিশ্বাসের কর্মকাণ্ডের কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রযোজকরাও। অপরাজিতার দাবি, স্বরূপের অনৈতিক আবদার না মানলে অনেক ছবি রিলিজ করতে দেওয়া হতো না, আবার অনেক ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। এই দমন-পীড়নের কারণে বহু প্রযোজক ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফেডারেশনের অন্দরে চলা এই ব্যান কালচার এবং থ্রেট সংস্কৃতির কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে টলিউডের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। এখন স্বরূপের গ্রেফতারিতে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ নতুন করে আশার আলো দেখছেন।

স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির ফলে টলিপাড়ার এই দীর্ঘদিনের জটিল সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিল্পী ও কলাকুশলীরা এখন চাইছেন, ভয়ের এই রাজত্ব শেষ করে ইন্ডাস্ট্রিতে পুনরায় স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ ফিরে আসুক। আদালতের নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *