ভারতে অবশেষে পা রাখল মৌসুমী বায়ু, ৯ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে বৃষ্টির বড় পূর্বাভাস

নির্দিষ্ট সময়ের থেকে তিন দিন পিছিয়ে অবশেষে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, গত ৪ জুন কেরল উপকূলে আনুষ্ঠানিক আগমনের মাধ্যমে দেশে বর্ষাকাল শুরু হলো। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের উপর তৈরি হওয়া ব্যাপক সংবহনজনিত মেঘমালা এবং আরব সাগর থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৩৭ থেকে ৪৬ কিলোমিটার বেগে ছুটে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ শক্তিশালী পশ্চিমী বায়ুর কারণেই এই অনুকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমী বায়ুর বর্তমান অবস্থান ও অগ্রগতি
ইতিমধ্যেই দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সমগ্র লাক্ষাদ্বীপ, কর্ণাটকের কিছু অংশ, তামিলনাড়ুর বিস্তীর্ণ এলাকা, আরব সাগরের বড় অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে এই বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণ ভারতের উপদ্বীপীয় অঞ্চল অতিক্রম করে মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
৯ জুনের আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী কয়েক দিনে বর্ষা দেশের আরও অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে। ৫ থেকে ৭ জুনের মধ্যে মধ্য আরব সাগরের বাকি অংশ, সমগ্র গোয়া, মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে বর্ষা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ঠিক পরপরই, ৮ থেকে ৯ জুনের মধ্যে তামিলনাড়ুর অবশিষ্টাংশ, বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব ও মধ্যভাগ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে মৌসুমী বায়ু পূর্ণরূপে বিস্তার লাভ করবে।
দেরিতে হলেও বর্ষার এই নিয়মতান্ত্রিক অগ্রগতি দেশের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে খরিফ শস্যের চাষ ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত সহায়ক হবে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িক জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।