পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের খোঁজে ভারত, প্রযুক্তি হস্তান্তরের বড় প্রস্তাব দিয়ে চাল চাললেন পুতিন

ভারতীয় বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণের জরুরি মুহূর্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় ভারত যখন হন্যে হয়ে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান খুঁজছে, ঠিক তখনই রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘সুখোই সু-৫৭’ (Su-57) স্টেল্থ ফাইটার জেট যৌথভাবে উৎপাদন ও এর সংবেদনশীল প্রযুক্তি বিনিময়ের ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর কাছে পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, দিল্লির সাথে এই যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পে রাশিয়ার কোনো সীমাবদ্ধতা বা শর্ত নেই।
আকাশপথের শক্তির ভারসাম্য ও ভারতের সংকট
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই প্রস্তাবের সময়কাল ভারতের জন্য ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) বহরে কোনো পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট নেই। বিপরীতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিমান বাহিনীতে শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে চিনের তৈরি অত্যাধুনিক ‘জে-৩৫এই’ (J-35AE) স্টেল্থ যুদ্ধবিমান। এই আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট প্রকল্প ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) চলমান থাকলেও, তা ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের আগে পরিষেবায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে তৈরি হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতা পূরণে ভারতের সামনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
পশ্চিমাদের কটাক্ষ ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পেছনে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি একটি পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সংবেদনশীল সফটওয়্যার সিস্টেমের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর নানা বিধিনিষেধের দিকে ইঙ্গিত করে পুতিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারতের সাথে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ভারতের সাথে রাশিয়ার এই আলোচনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে ‘ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফট’ (FGFA) প্রকল্পের অধীনে সু-৫৭ যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল মস্কো, যা থেকে ভারত পরবর্তীতে সরে আসে। পুতিনের বয়ানে উঠে এসেছে যে, ভারত তখন বিমানটির একক উন্নয়ন দেখার অপেক্ষা করতে চেয়েছিল এবং রাশিয়া এখন সেই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেই ভারতের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ভারত এখন রাশিয়ার এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করবে কি না, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে জল্পনা তুঙ্গে।