রক্ষাকবচ পেলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমবার সিআইডি হাজিরা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/28/abhishek-banerjee-2025-12-28-09-24-45.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে আইনি রক্ষাকবচ ও দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চে অভিষেকের আইনজীবীরা দু’বার মামলার দ্রুত শুনানির জন্য দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১০ জুন বুধবার মামলাটির শুনানি হবে। ফলে আগামী ৮ জুন সোমবার সিআইডির তলবের আগে কোনো আইনি সুরক্ষাকবচ পেলেন না এই শীর্ষ তৃণমূল নেতা।
আইনি জটিলতা ও হাজিরার সংকট
আগামী ৮ জুন সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার ভবানী ভবনে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে একবার হাজিরা এড়িয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে ৮ তারিখই উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়। গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে রক্ষাকবচ ও আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু শুক্রবার আদালত তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে রাজি না হওয়ায় আগামী সোমবার তিনি সিআইডির মুখোমুখি হবেন নাকি ফের হাজিরা এড়াবেন, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষত, আগামী ৭ জুন রবিবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে।
উৎস ও পরিষদীয় রাজনীতিতে প্রভাব
বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। ৭০ জন বিধায়কের সই সম্বলিত ওই চিঠিতে কয়েকজনের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি এবং ব্লক লেটারে নাম লেখার অভিযোগ ওঠে। চিঠিতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকেরও স্বাক্ষর ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এই সই জাল করার বিষয়ে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানোর পর রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডির হাতে সোপর্দ করে।
এই ঘটনার জেরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় ধরনের ভাঙন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিযোগকারী দুই বিধায়ককে দল বহিষ্কার করলেও পরদিনই ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সই জাল-কাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে এবং সোমবার অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরবর্তী মোড় নির্ভর করছে।