দক্ষিণের ছয় জেলায় সারা সপ্তাহ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, কলকাতায় নামল পারদ

কেরলে নির্ধারিত সময়ের তিন দিন পর, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা ঢোকার পর থেকেই ধীরে ধীরে তা উত্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মৌসম ভবনের মতে, উত্তর ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বর্ষা আসতে জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। তবে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের আবহেই শুক্রবার ভোর থেকে কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। এই আকস্মিক দুর্যোগের জেরে শহরের কিছু নিচু রাস্তায় জল জমলেও, গত কয়েক দিনের দমবন্ধ করা ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে সাময়িক রেহাই পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
লাগাতার বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ঝড়ের দাপট
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ছয়টি জেলায় টানা সাত দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলি হলো উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া। বৃষ্টির পাশাপাশি জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও শুক্রবারের পর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেখানে আলাদা করে কোনো সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি। এছাড়া হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি ও তাপমাত্রার প্রভাব
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কালিম্পং ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির কারণে শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে চার ডিগ্রি কমে ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, এই বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির সামগ্রিক তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, আগামী সাত দিন পারদ একই রকম থাকবে। সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের জন্য আপাতত কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি।