দফতর জটে চার দিন, হাইকম্যান্ডের তলবে আকস্মিক দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর চার দিন কেটে গেলেও এখনও চূড়ান্ত হলো না মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন। গত ১ জুন লোক ভবনে ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও কে কোন দফতর সামলাবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মাঝেই হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লিযাত্রা এবং সেখানে আগে থেকেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দফতর বণ্টন পিছানোর নেপথ্য কারণ
গত বুধবার শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকের পর আশা করা হয়েছিল দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা চালু বা বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের মতো একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হলেও, মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে শুক্রবারও দফতর ঘোষণার কথা থাকলেও বিকেল পর্যন্ত কোনও তালিকা প্রকাশ করা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল দফতরগুলোর দায়িত্বভার বণ্টন নিয়ে দলের অন্দরে একাধিক শীর্ষ নেতার মধ্যে সুপ্ত টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রাজ্য স্তরে এই জট না কাটায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতির এই আকস্মিক দিল্লি সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মন্ত্রিসভার বিন্যাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সম্পূর্ণভাবে বিজেপি হাইকম্যান্ডের হাতে। ৩৫ জন মন্ত্রীর এই বিশাল তালিকায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। শঙ্কর ঘোষ, তাপস রায়, অর্জুন সিংহ বা মনোজ কুমার ওরাওঁদের মতো হেভিওয়েট ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা নেতাদের কোন দফতরে বসানো হবে, তার ওপর সরকারের আগামী দিনের কাজের গতি প্রকৃতি নির্ভর করছে। দফতর বণ্টনে এই বিলম্ব প্রশাসনিক কাজে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি করতে পারে, যা কাটাতে দ্রুত কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত নিয়ে কলকাতায় ফিরতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী।