ক্ষমতা বদলের প্রথম ধাক্কায় হাতছাড়া শুভেন্দুর গড়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে তৃণমূলের মহাধস!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো জেলা পরিষদ হাতছাড়া হলো তৃণমূল কংগ্রেসের। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বরাবরই শুভেন্দু অধিকারী বনাম তৃণমূলের মর্যাদার লড়াই হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে বড়সড় সাংগঠনিক ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার আচমকাই মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা উত্তম বারিক।
ভোটের ফলের জের ও ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই এই মহাধসের চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে বিজেপি। খোদ চণ্ডীপুর আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েও বিজেপির কাছে পরাজিত হন পটাশপুরের প্রাক্তন বিধায়ক উত্তম বারিক। রাজ্যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলানোর পর থেকেই তিনি কার্যত জেলা পরিষদমুখী হচ্ছিলেন না। অবশেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, আগামী ৬-৭ দিন পর এই বিষয়ে একটি শুনানি হবে এবং তারপরই পদ খারিজের আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এই ঘটনা এক অভূতপূর্ব বৈপরীত্য তৈরি করে। জেলা পরিষদের মোট ৭০টি আসনের মধ্যে ৫৬টি আসনেই বিশাল ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৪টি আসন। কিন্তু ২০২৬-এর রাজনৈতিক ঝড়ে তৃণমূলের সেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্রেফ কাগজের অঙ্কেই রয়ে গেল, আর বাস্তবের রাশ চলে গেল বিজেপির হাতে।
প্রশাসনিক শূন্যতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সভাধিপতির এই ইস্তফার পর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বল সম্পূর্ণ নবান্ন তথা রাজ্য সরকারের কোর্টে। আইন অনুযায়ী, এই প্রশাসনিক শূন্যতা ঢাকতে সরকারের কাছে দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, রাজ্য সরকার চাইলে কোনো উচ্চপদস্থ সরকারি আমলাকে ‘প্রশাসক’ হিসেবে বসিয়ে জেলা পরিষদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্যদের মধ্য থেকেই কাউকে ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন সভাধিপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পূর্ব মেদিনীপুরের এই পতন কেবল শুরু মাত্র। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল যে সমস্ত গ্রামীণ বোর্ডের দখল নিয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেগুলিতে একে একে এই ধরনেরই ‘ডমিনো এফেক্ট’ বা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখা যেতে পারে।