দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে চলার শক্তি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সরকারের কাছে কাতর আর্জি হরিপদর

দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে চলার শক্তি, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সরকারের কাছে কাতর আর্জি হরিপদর

দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চলাচলের শক্তি হারিয়েছেন হরিপদ সামন্ত। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় দিন কাটছে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের এই যুবকের। এখন তাঁর একটাই আকুতি— “আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।” রাজ্য সরকারের কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের কাতর আরজি জানিয়েছেন তিনি।

হরিপদর জীবনের করুণ ইতিহাস

দিল্লিতে সোনার কাজ করতেন হরিপদ। করোনা অতিমারীর সময় বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ২০২০ সালের ১৪ জুন সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও অন্য এক যাত্রী মারা গেলেও, হরিপদর শিরদাঁড়া ও হাঁটু ভেঙে গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এসএসকেএম, ভেলোর এবং তমলুকের বিভিন্ন নার্সিংহোমে একাধিক অস্ত্রোপচার হলেও তিনি সুস্থ হতে পারেননি। বর্তমানে ওয়াকারই তাঁর একমাত্র ভরসা।

আর্থিক অনটনে থমকে চিকিৎসা

হরিপদর বাবা একজন ভাগচাষি এবং মা বাজারে সবজি বিক্রি করেন। তাঁদের সামান্য উপার্জনে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা ও মায়ের রোজগারেই কোনোমতে সংসার চলছে। নিজের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ হুইলচেয়ার প্রয়োজন, যার দাম প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। সেই টাকা জোগাড় করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন হরিপদ।

প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা

হরিপদ জানিয়েছেন, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আজ তাঁর এই অচল অবস্থা। তাই তিনি রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে তাঁর চিকিৎসার দায়ভার নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এলাকার বিধায়ক সুব্রত মাইতি জানিয়েছেন, তিনি হরিপদর বিষয়টি দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *