“শুধু মসজিদ নয়, মন্দির থেকেও মাইক সরেছে!” লাউডস্পিকার বিতর্কে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় স্থানে শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এমনকি তৃণমূলের একাধিক সাংসদও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই বিতর্কের জল গড়ালে নবান্ন থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী।
হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সরকার নতুন কোনো আইন তৈরি করেনি, বরং কলকাতা হাইকোর্টের পুরনো নির্দেশই কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে। কেবল মসজিদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থানে নিয়ম সবার জন্যই সমান এবং মন্দির থেকেও মাইক সরানো হয়েছে।
প্রশাসনের পরিসংখ্যান
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্য জুড়ে এ পর্যন্ত:
- ৪,২০৩টি মসজিদ থেকে মাইক বা লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে।
- ১,০৯৬টি মন্দির থেকেও মাইক অপসারণ করা হয়েছে।
আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, আদালত মাইক তুলে নেওয়ার কথা বলেনি, কেবল শব্দমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল। তিনি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে যেন টার্গেট না করা হয়—এই মর্মে সাংসদ আবু তাহের, ইউসুফ পাঠানরা কেন্দ্রকে স্মারকলিপি জমা দিলে কেন্দ্র থেকেও স্পষ্ট জানানো হয় যে, উচ্চতর আদালতের নির্দেশ মেনেই পুরো প্রক্রিয়াটি চালনা করা হচ্ছে।