মমতার ‘ডান হাত’ শওকত মোল্লা এবার এনআইয়ের জালে, চাঞ্চল্য ভাঙড়ে

মমতার ‘ডান হাত’ শওকত মোল্লা এবার এনআইয়ের জালে, চাঞ্চল্য ভাঙড়ে

ক্যানিং ও ভাঙড়ের একদা দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি অভিযানের সময় থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশির পর শুক্রবার রাতে অবশেষে গ্রেপ্তার হন এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শওকতের পাশাপাশি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী শামসুলকেও হেফাজতে নিয়েছে এনআইএ। এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

হাইড্রামা ও গ্রেপ্তারির নেপথ্য কাহিনী

ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘটা একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের মামলার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে শওকত মোল্লার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে একযোগে হানা দেন এনআইএ আধিকারিকরা। তবে কেন্দ্রীয় দল পৌঁছানোর আগেই চতুরতার সঙ্গে এলাকা ছাড়েন তিনি। এর পরপরই ক্যানিং, ভাঙড় ও সোনারপুরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। শওকত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার রাতে প্রথমে শামসুল এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কামালগাছি এলাকা থেকে শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও পরিবারের দাবি তিনি চিংড়িহাটা এলাকায় আত্মসমর্পণ করেছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শওকত মোল্লার এই গ্রেপ্তারি বর্তমান শাসক দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শওকতকে নিজের ‘ডান হাত’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং প্রয়োজনে নিজের নিরাপত্তা তুলে তাঁকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারি ভাঙড় ও ক্যানিং অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিতে পারে। এলাকায় বিরোধীদের রাজনৈতিক জমি শক্ত হওয়ার পাশাপাশি শাসক শিবিরের অন্দরে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে চাপ বাড়বে। শনিবারই ধৃত নেতাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এনআইএ, যা থেকে এই বিস্ফোরণ মামলার আরও বহু বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *