সুরুচি সংঘে ভাঙচুরের পর এবার নিউ আলিপুর থানা চত্বর রণক্ষেত্র, নামল র্যাফ

দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকা। শুক্রবার বিকেলে বিখ্যাত ‘সুরুচি সংঘ’ ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে উত্তেজনা ছড়ায় নিউ আলিপুর থানা সংলগ্ন এলাকায়। এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার প্রধান অনুগামীকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা এবং ওই নেতার অনুগামীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত লাঠি উঁচিয়ে আসরে নামতে হয় র্যাফ ও বিশাল পুলিশ বাহিনীকে।
দুর্নীতির আঁচ ও গণপিটুনি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এক বড়সড় দুর্নীতির ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা স্বরূপের পাপের ঘড়া পূর্ণ হতেই তার আঁচ এসে পড়েছে তার ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের ওপর। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বরূপের এক প্রধান ‘শিষ্য’কে এলাকায় দেখতে পেয়েই ধাওয়া করে একদল উত্তেজিত জনতা। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতে ওই ব্যক্তি নিউ আলিপুর থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু থানাই শেষরক্ষা করতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি থানা থেকে বের হতেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্রুদ্ধ জনতা। শুরু হয় এলোপাথাড়ি কিল, চড়, ঘুষি।
পাল্টা হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেয় যখন আক্রান্তকে বাঁচাতে ময়দানে নামে অভিযুক্ত নেতার অন্য অনুগামীরা। অভিযোগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয় তারা। এক সাধারণ নাগরিককে হেলমেট দিয়ে পিটিয়ে নাক-মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে ওই অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক লাঠালাঠি ও হাতাহাতি। থানার ঠিক সামনেই সাধারণ মানুষের তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় স্বরূপের দলবল।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
এই নজিরবিহীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষ। শুক্রবার বিকেলেই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বরূপ ও অরূপের ক্লাব হিসেবে পরিচিত ‘সুরুচি সংঘ’-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে বিলাসবহুল অন্তমহল, কিং সাইজ বেড, দামি শৌচালয় এবং এসি খোলার দাগ দেখে সাধারণ মানুষের সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ক্লাবের ভেতরে মজুত রাখা সরকারি জল ‘প্রাণধারা’র রাশি রাশি বোতল এবং ত্রাণের শাড়ি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও জনগণের ত্রাণ এভাবে ক্লাবের ভেতরে আটকে রেখে কালোবাজারি ও কারচুপি করার প্রমাণ হাতেনাতে মেলাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ।
এই ঘটনার প্রভাবে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেভাবে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় থানা চত্বরেই আছড়ে পড়েছে, তা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। এলাকা থমথমে থাকায় এবং পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় নিউ আলিপুর জুড়ে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ।