বড়সড় চমক, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান!

রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় চমক দেখা গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হল কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পুরসভা। তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতার মাঝে শাসকদল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন মেখলিগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি সহ মোট ৬ জন কাউন্সিলর। শুক্রবার কলকাতার বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের হাত থেকে তাঁরা হাত শিবিরের পতাকা তুলে নেন। মাত্র ৯টি ওয়ার্ডের এই পুরসভা আয়তনে ছোট হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দলবদলের কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় বিজেপির ব্যাপক জয়ের পর থেকেই সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে না গিয়ে কাউন্সিলররা কংগ্রেসের হাত ধরেছেন। দলত্যাগী চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনির অভিযোগ, রাজ্যে সরকার গঠনের পর বিজেপি হকার উচ্ছেদ ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙার মতো কাজ করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও তীব্র গোষ্ঠী কোন্দলে নাজেহাল। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতেই তাঁরা কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। যদিও মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা পরেশ চন্দ্র অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন এবং এই দলবদল নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।
নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ও প্রভাব
৬ জন কাউন্সিলর দল ছাড়ায় মেখলিগঞ্জ পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তৃণমূল এবং পুরবোর্ড এখন পুরোপুরি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় সাম্প্রতিক দলবদলের কারণে যেভাবে প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে, মেখলিগঞ্জের ক্ষেত্রেও সেই একই আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ ও দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। কোচবিহারের এই ভাঙন উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।