কোর্টে কী বলতে হবে তা শিখিয়ে দিয়েছিল সিবিআই! আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক নির্যাতিতার বাবা

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার খোদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল নির্যাতিতার পরিবার। শিয়ালদহ আদালতে নির্যাতিতার বাবা দাবি করেছেন, মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আটকে রাখার যুক্তিতে সিবিআইয়ের আইনজীবীই তাঁদের শিখিয়ে দিয়েছিলেন কোর্টে কী বলতে হবে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে তাঁদের রীতিমতো ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর দাবি মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তদন্তের পরিধি ও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
আদালতে নির্যাতিতার আইনজীবীর তরফে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-কে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। কিন্তু সিবিআইয়ের পাল্টা যুক্তি ছিল, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। সিবিআইয়ের এই যুক্তির প্রেক্ষিতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা ও আইনজীবী পার্থ দত্ত তাঁদের বয়ান শিখিয়ে দিয়েছিলেন এবং ভয় দেখিয়েছিলেন যে এর বাইরে অন্য কিছু বললে সঞ্জয়কে আটকে রাখা যাবে না। এই হুমকির কারণেই তাঁরা সেই সময় সঠিক পদক্ষেপ বা লিখিত অভিযোগ করতে পারেননি।
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
এদিন ক্রাইম সিনে প্রমাণ লোপাটের বিষয়েও সরব হন নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি আরজি করের অধ্যাপক সুমিত রায় তপাদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ওই চিকিৎসকই তড়িঘড়ি মৃতদেহের গায়ে কম্বল চাপা দিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেন এবং তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ফোন করে মর্গে দেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরিবারের এই অভিযোগগুলোর জেরে পুরো ঘটনার কারণ হিসেবে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ লোপাটের তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে। এই বিস্ফোরক অভিযোগের ফলে মামলার আইনি জটিলতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ ওঠায় সিবিআইয়ের ওপর দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের চাপ আরও প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।