মাত্র পাঁচ দিনের তীব্র দাবদাহে ঝরতে পারে আট হাজার প্রাণ!

মাত্র পাঁচ দিনের তীব্র দাবদাহে ঝরতে পারে আট হাজার প্রাণ!

ভারতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যে চরম বিপদ ঘনিয়ে আসছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের গবেষকদের সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ দিনের তীব্র দাবদাহ বা হিটওয়েভ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩০,০০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত এই তথ্য গোটা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক বিশাল সতর্কবার্তা।

উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে উত্তর প্রদেশ পরিস্থিতির শিকার সবচেয়ে বেশি। এই পাঁচ দিনের তীব্র গরমে রাজ্যটিতে আনুমানিক ৮,০৫৬ জন মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ভয়াবহতার বিচারে এরপরই রয়েছে বিহার, যেখানে প্রায় ৩,৬১৫ জনের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাটেও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, ভারতের এই পাঁচটি রাজ্যে মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ মানুষ বাস করলেও, দাবদাহে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৬ শতাংশই ঘটবে এখানে, যা এক প্রকার পরিবেশগত চরম অবিচার।

অদৃশ্য মৃত্যুর কারণ ও সরকারি হিসাবের ব্যবধান

এই বিপুল প্রাণহানির পেছনে শুধুমাত্র উচ্চ তাপমাত্রা দায়ী নয়; বরং জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্বলতা এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, সরকারি তথ্যের সাথে এই গবেষণার ফলাফলের বিশাল ব্যবধান। সরকারি নথিতে দাবদাহে মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে বছরে মাত্র কয়েকশ, সেখানে গবেষণালব্ধ মডেল বলছে, মাত্র একদিনের তীব্র গরমেও দেশজুড়ে প্রায় ৩,৪০০ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর শংসাপত্রে হার্ট অ্যাটাক বা অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো শারীরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করা হলেও, এর নেপথ্যে থাকা তীব্র গরমের প্রভাব প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। ফলে দাবদাহে প্রাণ হারানো মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি পর্যায়ে নীতিগত পরিবর্তন এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *