মমতার শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত, বাজেট অধিবেশনের আগেই দল ছাড়ছেন আরও ৫ তৃণমূল বিধায়ক!

রাজ্য রাজনীতিতে উথালপাথাল পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির শিবিরে আরও বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলল। বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তাঁর সঙ্গ ছেড়ে দলের ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকে’ যোগ দিতে চলেছেন আরও পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক। আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনই এই বিধায়কদের নতুন ব্লকের সাথে দেখা যেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই পাঁচজন বিধায়কই সম্প্রতি কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নতুন করে এই পাঁচ বিধায়ক দল ছাড়লে বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জিরপন্থী বিধায়কের সংখ্যা ২২ থেকে কমে ১৭-তে দাঁড়াবে।
তৃণমূলে আড়াআড়ি বিভাজন ও দলনেতা বিতর্ক
সম্প্রতি উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে শোভনদেব চ্যাটার্জীর পেশ করা সইয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই তৃণমূলের তরফ থেকে ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করা হয়, যার জেরে গত বুধবার আড়াআড়িভাবে ভেঙে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। বহিষ্কৃত ও বিক্ষুব্ধ ৫৮ জন বিধায়ক মিলে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের’ নেতা এবং রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক নির্বাচিত করে স্পিকারকে চিঠি দেন।
জেলায় জেলায় ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক ভাঙনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলায় তৃণমূলের টিকিটে জেতা ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জনই ইতিমধ্যে ‘মমতার তৃণমূল কংগ্রেস’ ছেড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকে যোগ দিয়েছেন। ফলে জেলায় শাসক শিবিরে কার্যত ধস নেমেছে। অন্যদিকে, কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের নেতারা জানিয়েছেন যে ফিরহাদ হাকিমের তরফ থেকে এখনও অফিশিয়ালি কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট অধিবেশনের ঠিক আগে এই দলবদল মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবিরের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নতুন ৫ জন বিধায়ক যোগ দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লকের সদস্য সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৩-তে পৌঁছাবে। এর ফলে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ এবং দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।