ভাঙড় বিস্ফোরণের মূলচক্রী তৃণমূলের শওকত, ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

ভাঙড় বিস্ফোরণের মূলচক্রী তৃণমূলের শওকত, ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করার পর, শনিবার তাঁকে ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠাল আদালত। আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফজতেই থাকতে হবে। আদালতের এই রায়ের ফলে ভাঙড় কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কোনো চক্রান্তের পর্দাফাঁস হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

হেফাজতের আবেদন ও জামিনের বিরোধিতা

শনিবার ধৃত শওকত মোল্লাকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা শওকতের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। এনআইএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শওকত মোল্লা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক এবং এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এই পরিস্থিতিতে তিনি যদি জামিন পেয়ে যান, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট এবং তদন্তপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারেন। অন্যদিকে, শওকতের আইনজীবী সুমন দাস পাল্টা যুক্তিতে জানান যে তাঁর মক্কেল জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান, ফলে সেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় টপকে তাঁর পক্ষে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো অবাস্তব। তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক জামিনের আর্জি খারিজ করে শওকতকে ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে শওকতের থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ এবং এর আগে ধৃতদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষার আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও এনআইএ-র বিস্ফোরক দাবি

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর জগত হন। তদন্তভার হাতে নিয়ে বৃহস্পতিবার ভাঙড় জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালায় এনআইএ। এরপরই শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শওকতকে। শনিবার সকালে এনআইএ-র তরফে জারি করা একটি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল হোতা এবং পরিচালক ছিলেন স্বয়ং শওকত মোল্লা। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের ঠিক পরপরই ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং আইনি সাক্ষ্য নষ্ট করে দেওয়ার নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন।

তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

এই মামলায় শওকতকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর শওকতের নিজস্ব স্করপিও গাড়িতে করেই মৃত ও আহতদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শওকত মোল্লার মতো একজন প্রভাবশালী প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতাকে হেফাজতে পাওয়ায় ভাঙড় জুড়ে বোমাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসার মূল শিকড়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারি এবং আদালতের কড়া অবস্থানের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা রাজনীতিতে যেমন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই ভোটের মুখে ব্যাকফুটে চলে গেল শাসকদল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *